পাইলস
বা হেমোরয়েড একটি সাধারণ অ্যানোরেক্টাল সমস্যা, যেখানে মলদ্বার ও নিম্ন রেকটামের রক্তনালিসমৃদ্ধ
টিস্যু ফুলে যেতে পারে এবং অস্বস্তি, চুলকানি, রক্তপাত বা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে
পারে। বিশেষ করে বাহ্যিক পাইলস ব্যথার কারণ হতে পারে, আর সেখানে রক্ত জমাট বা থ্রম্বোসিস
তৈরি হলে ব্যথা হঠাৎ অনেক বেশি তীব্র হয়ে উঠতে পারে।
তবে একটি
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—পাইলসের ব্যথা স্বাভাবিকভাবেই কেবল রাতে বাড়ে,
এমন কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে দিনের শেষে
বা রাতে অস্বস্তি বেশি অনুভূত হতে পারে। এর পেছনে দিনের বিভিন্ন অভ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য,
মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ এবং আক্রান্ত স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে তৈরি হওয়া জ্বালা
বা ফোলাভাব ভূমিকা রাখতে পারে।
দিনের চাপের প্রভাব রাতে অনুভূত হতে পারে
দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, বিশেষ করে
একটানা বসে থাকা এবং দীর্ঘ সময় টয়লেটে বসে থাকার অভ্যাস পাইলসের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।
একইভাবে মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া বা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য হেমোরয়েডের
অন্যতম পরিচিত ঝুঁকির কারণ।
দিনভর এই ধরনের চাপ অব্যাহত থাকলে আক্রান্ত
স্থানে অস্বস্তি বজায় থাকতে পারে। ফলে বিশ্রামের সময় এসে রোগীর কাছে ব্যথা বা জ্বালাভাব
তুলনামূলক বেশি স্পষ্ট মনে হতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য
ব্যথা বাড়াতে পারে
মল শক্ত হওয়া এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত
জোর প্রয়োগ পাইলসের সমস্যাকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে। এই কারণে পর্যাপ্ত ফাইবারযুক্ত
খাবার গ্রহণ এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণ পাইলস ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শাকসবজি, ফল, ডাল ও অন্যান্য ফাইবারসমৃদ্ধ
খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং মলত্যাগের স্বাভাবিক বেগ
অযথা আটকে না রাখা উপকারী হতে পারে।
থ্রম্বোসড পাইলস হলে ব্যথা তীব্র হতে পারে
বাহ্যিক পাইলসের মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে
গেলে তাকে থ্রম্বোসড এক্সটারনাল হেমোরয়েড বলা হয়। এতে মলদ্বারের পাশে শক্ত
ও অত্যন্ত সংবেদনশীল ফোলা অংশ তৈরি হতে পারে এবং ব্যথা বেশ তীব্র হতে পারে। এমন ব্যথা
দিন বা রাত—যেকোনো সময়ই থাকতে পারে।
অতএব রাতে অত্যন্ত তীব্র ব্যথা হলে
শুধু “সাধারণ পাইলসের ব্যথা” ভেবে দীর্ঘদিন অবহেলা করা ঠিক নয়।
সব
মলদ্বারের ব্যথাই পাইলস নয়
মলত্যাগের সময় ধারালো ব্যথা এবং পরে
কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত জ্বালাপোড়া থাকলে অ্যানাল ফিশার বা মলদ্বারের ক্ষুদ্র
ক্ষতও কারণ হতে পারে। অ্যানাল ফিশারেও উজ্জ্বল লাল রক্ত দেখা যেতে পারে, ফলে অনেক সময়
রোগী এটিকে পাইলস বলে ভুল করেন।
এছাড়া ফিস্টুলা, সংক্রমণ কিংবা অন্যান্য
অ্যানোরেক্টাল সমস্যাও ব্যথার কারণ হতে পারে। তাই উপসর্গের প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য
প্রয়োজনে চিকিৎসকের শারীরিক পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কখন
চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?
তীব্র বা ক্রমশ বাড়তে থাকা ব্যথা,
বারবার রক্তপাত, উল্লেখযোগ্য ফোলা, জ্বর, পেটের ব্যথা অথবা কয়েক দিনেও উপসর্গ না কমলে
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে তীব্র মলদ্বারের ব্যথার সঙ্গে রেকটাল ব্লিডিং
থাকলে দ্রুত চিকিৎসা মূল্যায়নের পরামর্শ দেয় NIDDK।
উপসংহার
রাতে
পাইলসের ব্যথা বেশি অনুভূত হওয়া মানেই রাতের সময় রোগটি আলাদাভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে—এমন
নয়। বরং কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, বাহ্যিক
পাইলসের প্রদাহ বা থ্রম্বোসিসের মতো কারণ ব্যথাকে তীব্র করতে পারে। তাই সাময়িকভাবে
ব্যথা কমানোর পাশাপাশি মূল কারণ শনাক্ত করা এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করাই দীর্ঘমেয়াদি
স্বস্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ।