Search

ডায়েট–জিমে কাজ হয়নি? শহরে জেদি মেদ গলানোর ‘ম্যাজিক সার্জারি’—লাইপোসাকশন নিয়ে তুমুল আগ্রহ

ডায়েট–জিমে কাজ হয়নি? শহরে জেদি মেদ গলানোর ‘ম্যাজিক সার্জারি’—লাইপোসাকশন নিয়ে তুমুল আগ্রহ

বিশেষ প্রতিবেদন
অধ্যাপক ডা. সৌভিক অধিকারী
কসমেটিক ও প্লাস্টিক সার্জন

কলকাতায় হঠাৎ করেই বাড়ছে এক বিশেষ ধরনের সার্জারির চাহিদা—লাইপোসাকশন। অনেকেই বলছেন, “জিম করলাম, ডায়েট করলাম, তবুও পেট, উরু বা হাতের মেদ কিছুতেই কমছে না!” এই হতাশার মাঝেই নতুন আশার আলো হিসেবে উঠে এসেছে আধুনিক লাইপোসাকশন প্রযুক্তি।


লাইপোসাকশন আসলে কী?

লাইপোসাকশন হল একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি, যার মাধ্যমে শরীরের নির্দিষ্ট অংশে জমে থাকা জেদি ও অবাঞ্ছিত চর্বি অপসারণ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের কথায়—

  • এটি ওজন কমানোর চিকিৎসা নয়
  • এটি শরীরের আকৃতি বা বডি কনট্যুর উন্নত করার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
  • যে চর্বি ব্যায়াম ও ডায়েটেও কমে না, এই সার্জারি সেই অংশকেই লক্ষ্য করে

অর্থাৎ, লাইপোসাকশন মানে রোগা হওয়া নয়—শরীরের গঠন আরও সুন্দর ও সুষম করা


হট নিউজ

  • একটি সেশনে সর্বোচ্চ ৫ লিটার পর্যন্ত চর্বি অপসারণ করা যায়
  • ৩–৬ মাসের ব্যবধানে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক সেশন করা সম্ভব

কেন এত মানুষ লাইপোসাকশনের দিকে ঝুঁকছেন?

শহরের বহু মানুষ আজ একই সমস্যার কথা জানাচ্ছেন—

  • ব্যায়াম করেও পেট কমছে না
  • থাই বা হিপের মেদ কিছুতেই কমানো যাচ্ছে না
  • প্রসবের পর শরীরের আকৃতি বদলে গেছে
  • আত্মবিশ্বাসে টান পড়ছে

এই কারণেই মহিলা ও পুরুষ—দু’জনেই এখন লাইপোসাকশন নিয়ে আগ্রহী হচ্ছেন।


শরীরের কোন কোন অংশে লাইপোসাকশন করা যায়?

  • পেট
  • উরু
  • নিতম্ব
  • বাহু
  • ঘাড়ের নীচে (ডাবল চিন)
  • পিঠ
  • বুক (পুরুষদের ক্ষেত্রে গাইনেকোমাস্টিয়া)

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন ফ্যাট রিমুভাল অনেক বেশি নিরাপদ ও সূক্ষ্ম


এই ‘ম্যাজিক সার্জারি’ কীভাবে করা হয়?

  • লোকাল বা জেনারেল অ্যানাস্থেশিয়া দেওয়া হয়
  • সূক্ষ্ম ক্যানুলার মাধ্যমে চর্বি ভেঙে বের করা হয়
  • ১–২ দিনের মধ্যেই বাড়ি ফেরা সম্ভব
  • অস্ত্রোপচারের পর কিছুদিন কমপ্রেশন পোশাক পরতে হয়

ফলাফল হিসেবে দেখা যায়—

  • দ্রুত রিকভারি
  • আরও নিখুঁত বডি কনট্যুর
  • শরীরের আকৃতিতে স্পষ্ট ও দৃশ্যমান পরিবর্তন

লাইপোসাকশন কি সবার জন্য?

এই সার্জারি তাঁদের জন্য উপযুক্ত—

  • যাঁরা শারীরিকভাবে সুস্থ
  • যাঁদের নির্দিষ্ট জায়গায় জেদি মেদের সমস্যা আছে
  • যাঁদের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত

অত্যধিক ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে লাইপোসাকশন করা হয় না—এ কথা স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


সার্জারির পর যত্ন নেওয়া কেন জরুরি?

অধ্যাপক ডা. সৌভিক অধিকারীর পরামর্শ অনুযায়ী—

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
  • পর্যাপ্ত জল পান করুন
  • কমপ্রেশন গার্মেন্ট নিয়ম মেনে ব্যবহার করুন
  • প্রয়োজনে ফলো-আপে যান
  • ধীরে ধীরে স্বাভাবিক কাজে ফিরুন

আধুনিক প্রযুক্তিতে লাইপোসাকশন এখন আরও নিরাপদ

কলকাতার কসমেটিক সার্জারি সেন্টারগুলোর মতে—

“বর্তমানে এই প্রক্রিয়া অনেক কম ঝুঁকিপূর্ণ, ব্যথা কম হয় এবং ফলাফল দ্রুত দেখা যায়। রোগীরা রিকভারি শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।”


বিশেষজ্ঞের বার্তা — অধ্যাপক ডা. সৌভিক অধিকারী

“লাইপোসাকশন কোনও জাদু নয়। এটি একটি বৈজ্ঞানিক, পরিকল্পিত ও নিরাপদ সার্জারি। সঠিক রোগী নির্বাচন এবং অভিজ্ঞ সার্জনের হাতে করালে এর ফল অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করুন।”

Prev Article
আয়ুর্বেদে পাইলস চিকিৎসা: নিমের অ্যান্টিসেপটিক শক্তি
Next Article
অবশ্যই দেখুন: ডা. আশিক ইকবালের জরুরি ডায়াবেটিস গাইড — কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত