Search

পাইলসের ব্যথা হঠাৎ বেড়ে যায় কেন? জানুন ৬টি সম্ভাব্য কারণ

পাইলস বা হেমোরয়েড এমন একটি অ্যানোরেক্টাল সমস্যা, যেখানে মলদ্বারের আশপাশের শিরা ফুলে যায় এবং প্রদাহ, অস্বস্তি, চুলকানি, রক্তপাত বা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন সামান্য অস্বস্তি থাকলেও হঠাৎ একদিন ব্যথা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এই পরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত চাপ দেওয়া, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বা পাইলসের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধার মতো পরিস্থিতিতে ব্যথা তীব্র হতে পারে।

তবে মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, মলদ্বারে ব্যথা বা রক্তপাত মানেই সবসময় পাইলস নয়। অ্যানাল ফিশার, ফিস্টুলা, সংক্রমণ বা অন্যান্য অ্যানোরেক্টাল সমস্যাতেও একই ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসকের মূল্যায়ন জরুরি।

১. কোষ্ঠকাঠিন্য ও শক্ত মল

পাইলসের ব্যথা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ হলো কোষ্ঠকাঠিন্য। মল শক্ত হয়ে গেলে তা ত্যাগ করার সময় মলদ্বারের শিরার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। আগে থেকেই ফুলে থাকা হেমোরয়েডে এই চাপ প্রদাহ ও ব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এ কারণে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত ফাইবার, শাকসবজি, ফল, ডাল এবং সহজপাচ্য খাবার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় মলত্যাগের বেগ আটকে রাখার অভ্যাসও এড়ানো উচিত।

২. মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া

Toilet-এ বসে দীর্ঘক্ষণ জোর করা পাইলসের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত চাপের ফলে মলদ্বারের শিরায় রক্তের চাপ বাড়ে এবং ফুলে থাকা অংশ আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। এর ফলে মলত্যাগের সময় বা পরে ব্যথা, জ্বালা ও অস্বস্তি বাড়তে পারে।

মল সহজে না হলে দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা না করে খাদ্যাভ্যাস, দৈনন্দিন রুটিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণ করা অধিক যুক্তিসঙ্গত।

৩. Thrombosed Hemorrhoid বা রক্ত জমাট বাঁধা

বিশেষ করে বাহ্যিক পাইলসের ভেতরে হঠাৎ রক্ত জমাট বাঁধলে খুব দ্রুত তীব্র ব্যথা শুরু হতে পারে। একে thrombosed hemorrhoid বলা হয়। মলদ্বারের পাশে শক্ত, ফুলে থাকা ও অত্যন্ত ব্যথাযুক্ত গুটি অনুভূত হতে পারে।

এই ধরনের তীব্র ব্যথাকে সাধারণ পাইলস ভেবে দীর্ঘদিন নিজে থেকে চিকিৎসা করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে যথাযথ চিকিৎসা নির্ধারণ করবেন।

৪. দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা

অফিসের কাজ, গাড়ি চালানো অথবা দীর্ঘ সময় একই অবস্থায় বসে থাকার কারণে পেলভিক এবং অ্যানাল অঞ্চলে চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। যারা আগে থেকেই পাইলসে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা ভারীভাব, অস্বস্তি এবং ব্যথা বাড়াতে পারে।

কাজের মাঝে নিয়মিত উঠে সামান্য হাঁটা এবং দৈনন্দিন শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা উপকারী অভ্যাস।

৫. অতিরিক্ত ঝাল, তৈলাক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস

ঝাল খাবার সরাসরি পাইলস সৃষ্টি করে—এমন সরল সম্পর্ক নেই। তবে অতিরিক্ত ঝাল, তৈলাক্ত, কম ফাইবারযুক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস অনেকের হজমে অস্বস্তি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ঘনঘন মলত্যাগের প্রবণতা বাড়াতে পারে। এর ফলে আগে থেকেই সংবেদনশীল অ্যানাল অঞ্চলে জ্বালা ও ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।

তাই পাইলসের সময় নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে খাবার নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ।

৬. প্রদাহ, ঘর্ষণ ও অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা

পাইলস ফুলে গেলে আশপাশের টিস্যুতে প্রদাহ ও সংবেদনশীলতা তৈরি হতে পারে। বারবার ঘর্ষণ, অতিরিক্ত পরিষ্কার করা, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা অথবা কঠিন মল এই প্রদাহ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তখন সাধারণ অস্বস্তিও তীব্র ব্যথায় পরিণত হতে পারে।

অঞ্চলটি পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় ঘর্ষণ এড়ানো উপকারী।

OliLife Anocurex Tablet ও Cream কীভাবে সহায়ক হতে পারে?

পাইলসের উপসর্গ ব্যবস্থাপনায় কিছু ব্যক্তি চিকিৎসকের পরামর্শ বা পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী OliLife Anocurex Tablet এবং Anocurex Cream ব্যবহার করতে পারেন। এগুলোকে পাইলসের নিশ্চিত বা একমাত্র “cure” হিসেবে বিবেচনা না করে supportive care-এর অংশ হিসেবে দেখা অধিক যুক্তিসঙ্গত।

Anocurex Tablet-এ ব্যবহৃত নির্বাচিত ভেষজ ও supportive ingredients পাইলসের ক্ষেত্রে শিরার স্বাভাবিক কার্যকারিতা, প্রদাহজনিত অস্বস্তি, হজম এবং নিয়মিত bowel movement বজায় রাখতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও অতিরিক্ত strain কমানোর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় এটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে, Anocurex Cream বাহ্যিকভাবে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করা হয়। এটি স্থানীয় জ্বালা, চুলকানি, অস্বস্তি ও প্রদাহজনিত সমস্যায় প্রশান্তিদায়ক সহায়তা দিতে পারে।

কীভাবে ব্যবহার করবেন?

Anocurex Tablet:
প্যাকেটের নির্দেশিত মাত্রা অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত। নিজের ইচ্ছায় মাত্রা বাড়ানো উচিত নয়।

Anocurex Cream:
মলত্যাগের পর আক্রান্ত স্থান আলতোভাবে পরিষ্কার করে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর বাহ্যিক অংশে অল্প পরিমাণ cream পাতলা স্তরে প্রয়োগ করা যেতে পারে। ব্যবহারের নির্দিষ্ট সংখ্যা ও সময় পণ্যের লেবেল অথবা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুসরণ করা উচিত।

শুধু ওষুধ নয়, অভ্যাসের পরিবর্তনও জরুরি

পাইলস নিয়ন্ত্রণে শুধুমাত্র tablet বা cream-এর ওপর নির্ভর না করে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ, মলত্যাগের বেগ দমন না করা, দীর্ঘক্ষণ Toilet-এ না বসা এবং অতিরিক্ত strain এড়ানো উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি প্রচুর রক্তপাত হয়, হঠাৎ অসহনীয় ব্যথা শুরু হয়, কালো রঙের মল হয়, জ্বর দেখা দেয়, শক্ত ও ব্যথাযুক্ত গুটি তৈরি হয় অথবা কয়েক দিনের মধ্যে উপসর্গ কমে না আসে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শেষ কথা

পাইলসের ব্যথা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া অনেক সময় শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। কারণ চিহ্নিত করে কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যাভ্যাস সংশোধন, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা কমানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী supportive treatment গ্রহণ করলে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে। OliLife Anocurex Tablet ও Cream একটি সহায়ক ব্যবস্থাপনার অংশ হতে পারে, তবে স্থায়ী বা তীব্র সমস্যার ক্ষেত্রে সঠিক diagnosis এবং qualified healthcare professional-এর পরামর্শই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।

Disclaimer: এই লেখা শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসচেতনতা ও শিক্ষামূলক তথ্যের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত। এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়।

Prev Article
বসে থাকা, কম জল খাওয়া ও Constipation—এই ৩ অভ্যাস কি Piles-এর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে?
Next Article
অবশ্যই দেখুন: ডা. আশিক ইকবালের জরুরি ডায়াবেটিস গাইড — কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত