পাইলস
বা হেমোরয়েডের ক্ষেত্রে শুধু ওষুধ বা চিকিৎসাই নয়, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য, শক্ত মল এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ
পাইলসের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই এমন খাবার বেছে নেওয়া প্রয়োজন, যা মলকে তুলনামূলক
নরম রাখতে, নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করতে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায়
রাখতে সাহায্য করে। NIDDK-এর তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ-ফাইবারযুক্ত খাবার মলকে নরম ও সহজে
নির্গমনে সহায়তা করতে পারে।
পাইলসের
‘বন্ধু’—ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার
পাইলসের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকার অন্যতম
গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ডায়েটারি ফাইবার। পর্যাপ্ত ফাইবার মলের পরিমাণ ও কোমলতা
বজায় রাখতে সাহায্য করে, ফলে মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত জোর দেওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে।
ফাইবারের ভালো উৎসের মধ্যে রয়েছে—
·
বিভিন্ন
ধরনের শাকসবজি
·
পেয়ারা,
আপেল, নাশপাতি, কমলা, পেঁপে প্রভৃতি ফল
·
ওটস
ও অন্যান্য হোল গ্রেন
·
মুসুর,
মুগ, ছোলা ও অন্যান্য ডালজাতীয় খাবার
·
মটরশুঁটি
ও বিভিন্ন বিনস
·
বাদাম
ও বীজজাতীয় খাবার
তবে হঠাৎ করে অত্যধিক ফাইবার গ্রহণ
না করে ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় এর পরিমাণ বাড়ানো ভালো। দ্রুত অতিরিক্ত ফাইবার গ্রহণ
করলে কিছু মানুষের গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে।
ফল
ও সবজি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ফল এবং শাকসবজিতে শুধু ফাইবারই নয়,
বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে। নিয়মিত ফল ও সবজি গ্রহণ
অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখার পাশাপাশি সামগ্রিক খাদ্যতালিকাকে ভারসাম্যপূর্ণ
করতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে যাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রবণতা
রয়েছে, তাঁদের প্রতিদিনের খাবারে ফল, সবজি, ডাল এবং হোল গ্রেন রাখার দিকে গুরুত্ব
দেওয়া উচিত। কম ফাইবারযুক্ত খাদ্যাভ্যাস পাইলসের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে
NIDDK উল্লেখ করেছে।
পর্যাপ্ত
তরল গ্রহণও জরুরি
শুধু ফাইবার বাড়ালেই হবে না; শরীরে
পর্যাপ্ত তরলও প্রয়োজন। পর্যাপ্ত তরল ফাইবারকে কার্যকরভাবে কাজ করতে এবং মলকে তুলনামূলক
সহজে নির্গমনের উপযোগী রাখতে সাহায্য করতে পারে। ব্যক্তিভেদে তরলের প্রয়োজন ভিন্ন
হতে পারে, বিশেষ করে কিডনি বা হৃদ্রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তরল গ্রহণ
করা উচিত।
পাইলসের
‘শত্রু’ কোন খাবার?
এখানে ‘শত্রু’ বলতে এমন খাবারকে বোঝানো
হচ্ছে, যা খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত থাকলে ফাইবারের ঘাটতি তৈরি করতে বা কোষ্ঠকাঠিন্যের
প্রবণতা বাড়াতে পারে।
অতিরিক্ত পরিমাণে—
·
ময়দার
তৈরি পরিশোধিত খাবার
·
অত্যন্ত
কম ফাইবারযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার
·
অতিরিক্ত
ফাস্ট ফুড
·
অতিরিক্ত
চিজ ও অত্যন্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার
·
শাকসবজি
ও ফলবিহীন ভারী খাবার
নিয়মিত খাওয়া হলে সামগ্রিক খাদ্যতালিকায়
ফাইবারের পরিমাণ কমে যেতে পারে। পাইলসের ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কোষ্ঠকাঠিন্য
এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ কমানো।
ঝাল
খাবার কি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ?
পাইলস হলেই প্রত্যেকের জন্য সমস্ত ঝাল
বা মশলাযুক্ত খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ—এমন সার্বজনীন নিয়ম নেই। তবে কোনো নির্দিষ্ট
খাবার গ্রহণের পর যদি মলত্যাগের সময় জ্বালাভাব, ডায়রিয়া বা অস্বস্তি স্পষ্টভাবে
বেড়ে যায়, তাহলে সেই খাবার সীমিত রাখা যুক্তিযুক্ত। অর্থাৎ ব্যক্তিগত সহনশীলতাও গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু
ডায়েটই যথেষ্ট নয়
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস পাইলস নিয়ন্ত্রণের
গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এটিই একমাত্র চিকিৎসা নয়। দীর্ঘ সময় টয়লেটে বসে থাকা এবং
মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া এড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
পাইলস
হলে খাবারের ক্ষেত্রে মূল নীতি খুবই স্পষ্ট—ফাইবারসমৃদ্ধ, ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যকে
বন্ধু করুন এবং কম ফাইবারযুক্ত, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের উপর নির্ভরতা কমান।
নিয়মিত ফল, শাকসবজি, ডাল, হোল গ্রেন এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ মলত্যাগ সহজ রাখতে সহায়তা
করতে পারে।
তবে
বারবার রক্তপাত, তীব্র ব্যথা, অস্বাভাবিক ফোলা অথবা দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা থাকলে শুধু
খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ মলদ্বার
দিয়ে রক্তপাতের কারণ সবসময় পাইলস নাও হতে পারে।