Search

ভোটের আবহে কেন বাড়ে ব্লাড প্রেসার?

ভোটের আবহে কেন বাড়ে ব্লাড প্রেসার?

ভোট এলেই চারপাশের পরিবেশ যেন হঠাৎ করেই বদলে যায়। রাস্তায় মাইক, দেওয়ালে পোস্টার, টিভি ও মোবাইল স্ক্রিন জুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, সোশ্যাল মিডিয়ায় তর্ক–বিতর্ক—সব মিলিয়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে এক অদ্ভুত উত্তেজনা ঢুকে পড়ে।

এই উত্তেজনাই অনেক সময় শরীরের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে ব্লাড প্রেসারের উপর। অনেকেই লক্ষ্য করেন ভোটের সময়—

  • মাথা ভার লাগে
  • বুক ধড়ফড় করে
  • রাগ বেড়ে যায়
  • রাতে ঘুম ঠিকমতো হয় না

এর পেছনে শুধু মানসিক কারণই নয়, আছে কিছু বৈজ্ঞানিক ও জীবনযাপন সংক্রান্ত কারণ। চলুন ধাপে ধাপে বিষয়টা বুঝে নেওয়া যাক।


১. অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ

ভোট মানেই অনিশ্চয়তা। কে জিতবে, কী পরিবর্তন আসবে, নিজের ভবিষ্যৎ কী হবে— এই প্রশ্নগুলো অবচেতনে মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে।

এই সময় শরীর থেকে বেশি মাত্রায় নিঃসৃত হয়—

  • কর্টিসল
  • অ্যাড্রেনালিন

এই হরমোনগুলো রক্তনালিকে সংকুচিত করে, ফলে ব্লাড প্রেসার হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। যাঁদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও বেশি হয়।


২. রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক ও রাগ

ভোটের সময় রাজনৈতিক মতভেদ খুবই সাধারণ। চায়ের দোকান থেকে ফেসবুক কমেন্ট— সব জায়গাতেই তর্ক লেগে থাকে।

বারবার রেগে গেলে—

  • হৃদস্পন্দন দ্রুত হয়
  • রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে যায়
  • স্নায়ুর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে

এই অবস্থা দীর্ঘদিন চললে, ব্লাড প্রেসার স্থায়ীভাবেও বাড়তে পারে।


৩. ঘুমের অভাব

ভোটের সময় অনেকেই—

  • রাত জেগে খবর দেখেন
  • ফলাফল নিয়ে আলোচনা করেন
  • সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করেন

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে—

  • শরীর নিজেকে ঠিকভাবে রিকভার করতে পারে না
  • স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজিত থাকে
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়

ফলে ব্লাড প্রেসার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।


৪. অনিয়মিত খাওয়া ও খাদ্যাভ্যাস

ভোটের সময় রুটিন এলোমেলো হয়ে যায়—

  • দেরিতে খাওয়া
  • বাইরের তেল-মশলাদার খাবার
  • প্যাকেটজাত খাবার

বিশেষ করে বেশি ক্ষতিকর—

  • অতিরিক্ত নুন
  • ভাজা খাবার

এই অভ্যাসগুলো ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর বড় কারণ।


৫. জল কম খাওয়ার প্রবণতা

উত্তেজনা ও ব্যস্ততার মধ্যে অনেকেই জল খেতে ভুলে যান। জল কম হলে—

  • রক্ত ঘন হয়ে যায়
  • হৃদপিণ্ডকে বেশি চাপ নিয়ে কাজ করতে হয়
  • রক্তচাপ বেড়ে যায়

গরমের সময় ভোট হলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।


৬. শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া

ভোটের সময় মানুষ বেশি বসে—

  • খবর দেখে
  • মোবাইল ব্যবহার করে

শারীরিক সক্রিয়তা কম হলে—

  • রক্ত চলাচল ধীর হয়
  • ওজন বাড়ে
  • ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়

নিয়মিত অল্প হাঁটাও অনেক উপকার করে।


৭. ক্যাফেইন ও নেশাজাতীয় দ্রব্য

উত্তেজনা সামলাতে অনেকেই—

  • বেশি চা বা কফি খান
  • নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করেন

অতিরিক্ত ক্যাফেইন—

  • স্নায়ুকে উত্তেজিত করে
  • হৃদস্পন্দন বাড়ায়
  • ব্লাড প্রেসার বাড়িয়ে দেয়

৮. মিডিয়ার অতিরিক্ত প্রভাব

২৪ ঘণ্টা নিউজ চ্যানেল ও ব্রেকিং নিউজ— মস্তিষ্ককে সবসময় উত্তেজিত রাখে।

  • মানসিক অস্থিরতা বাড়ে
  • ভয় ও রাগ তৈরি হয়
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়

নিজেকে কিছুটা দূরে রাখাও জরুরি।


৯. আগে থেকে থাকা রোগের প্রভাব

যাঁদের—

  • ডায়াবেটিস
  • হৃদরোগ
  • দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ

আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ভোটের সময় ঝুঁকি বেশি। মানসিক চাপ এই রোগগুলোর উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়।


১০. কীভাবে এই সময় ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখবেন

  • নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া
  • পর্যাপ্ত জল পান
  • দিনে ২০–৩০ মিনিট হাঁটা
  • রাতের ঘুম ঠিক রাখা
  • অতিরিক্ত রাজনৈতিক তর্ক এড়ানো
  • নিয়মিত ব্লাড প্রেসার মাপা

উপসংহার

ভোট গণতন্ত্রের উৎসব হলেও, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানসিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা। এই সময় ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু সেটাকে অবহেলা করা উচিত নয়।

রাজনীতি আসবে যাবে, কিন্তু স্বাস্থ্য একবার নষ্ট হলে সামলানো কঠিন। নিজের শরীর ও মনের দিকে একটু বাড়তি নজর দিন— ভোটের আবহেও সুস্থ থাকা সম্ভব।

Prev Article
ফুসফুস রোগ প্রতিরোধে ধোঁয়াবিহীন রান্না
Next Article
অবশ্যই দেখুন: ডা. আশিক ইকবালের জরুরি ডায়াবেটিস গাইড — কারণ, উপসর্গ ও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

এই বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত